Wednesday, June 29, 2022

শহরের বস্তিবাসীদের নিজস্ব নির্দিষ্ট ঠিকানা দিতে উদ্যোগ কলকাতা পুরসভার

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img


কলকাতা :  কলকাতার বস্তিবাসীদের কারওর ঘরের নির্দিষ্ট ঠিকানা নেই । কারওর বা ১০  নম্বর বস্তি, আবার কারওর ঠিকানা লাহা কলোনি । এ ভাবেই এতদিন নিজেদের বাড়ির ঠিকানা জানাতেন বস্তিবাসীরা । আবার অনেক বস্তি আছে যেখানে এক নাম ও পদবির একাধিক ব্যক্তি আছেন । ফলে নির্দিষ্ট কাজে এলে লোককে খুঁজে বের করা মুশকিল হয়ে পড়ে । তখন বাবা অথবা ঠাকুরদার নামে পরিচয় খুঁজতে হয় । একজনের জিনিস আরেকজনের ঘরে পৌঁছে যায়, এ তো হামেশাই হয়েছে ।

কোনও বস্তিতে ৩০-৫০ ঘর বাসিন্দা, তো কোথাও শতাধিক । ঠিকানা সেই একটি । ঠিকানার গোলকধাঁধার এ বার মুশকিল আসান করল কলকাতা পুরসভা । মুশকিল আসান করতে কলকাতা পুরসভার বস্তি বিভাগ ও একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইতিমধ্যেই ময়দানে কাজ শুরু করে দিয়েছে ।

কলকাতার বস্তিগুলির প্রতিটি ঘরে লাগানো হচ্ছে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর । এই বিশেষ নম্বর নিজস্ব ঠিকানার মতো কাজ করবে । সংখ্যা ও শব্দ মিলিয়ে আট সংখ্যা । সঙ্গে আরও চারটি সংখ্যা থাকছে পুরসভার নিজস্ব তথ্যের জন্য । জানাচ্ছেন কলকাতা পুরসভার বস্তি বিভাগের মেয়র পারিষদ সদস্য স্বপন সমাদ্দার ।

আরও পড়ুন :  কলকাতার মাটির তলায় নিকাশি ব্য়বস্থার হদিশ দিতে হাজির পুরসভার ডিজিটাল ম্যাপ

কলকাতা শহরে ৩৭৯০ টি বস্তি আছে । যার মধ্যে হাজার দেড়েক বড় বস্তি । বিরাট এলাকা জুড়ে । তবে এমন বস্তির ক্ষেত্রে কোনও একটি ঘরে কোনও সরকারি পরিষেবা বা অনলাইন কোনও অর্ডার থাকলে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে খোঁজা খুবই দুষ্কর । এ বার এই বিশেষ নম্বর বস্তিবাসী মানুষজনকে তাঁদের নিজেদের ঠিকানার সন্ধান দিল । বস্তির বাসিন্দারা অনলাইন অর্ডার দিলে ডেলভারিম্যানদের আর দরজায় দরজায় যেতে হবে না । ইউনিক নম্বর পেলেই গুগুল প্রাপকের লোকেশন বাতলে দেবে । ঠিক ওই বাড়ির সঠিক দরজায় পৌঁছে দেবে সবাইকে । চিঠিপত্র হোক বা সরকারি সুবিধা একইরকম ভাবে পৌঁছে যাবে বস্তিবাসীর দরজায় ।

আরও পড়ুন : এই প্রথম দেশের কোনও পুরসভার উদ্যোগ, অতিমারিকালে প্রয়াত চিকিৎসকদের স্মৃতিসৌধ হবে কলকাতায়

 কলকাতা পুরসভার বস্তি বিভাগের উদ্যোগে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বস্তিবাসীদের নতুন ঠিকানা দেওয়ার কাজ করছে । তিন ধাপে হবে এই কাজ । প্রথম ধাপ,  প্রাথমিকভাবে সমীক্ষা ।  অর্থাৎ ঘরবাড়ির নিজস্ব লোকেশন নির্ধারণ করা । দ্বিতীয় ধাপ হল সেই লোকেশনে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার যা সংখ্যা ও শব্দ জুড়ে হবে, তা ঠিক করা এবং সেই নাম্বার প্লেট তৈরি করা । তৃতীয় ধাপে নাম্বার প্লেট লাগানোর সময় পরিবারের সঙ্গে কথা বলে নির্দিষ্ট কিছু তথ্য সংগ্রহ করা ।

আরও পড়ুন : স্বামীর চাহিদামতো বাপের বাড়ি থেকে টাকা না নিয়ে আসায় স্ত্রীকে মাথা ন্যাড়া করে ‘শাস্তি’ দিল স্বামী

সংশ্লিষ্ট পরিবারের রেশন কার্ড আছে? থাকলে কি ধরনের কার্ড? কাদের আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড আছে? বাড়িতে কেউ সিনিয়র সিটিজেন বা কেউ বিধবা আছেন কি না? পরিবারের কেউ কি প্রতিবন্ধী রয়েছেন ? -সেই সব তথ্য সংগ্রহ করছে কলকাতা পুরসভার পক্ষে ওই সংস্থা।

বেশ কিছু দিন ধরেই শহর জুড়ে এই কাজ চলছে। আপাতত ৫০ টি ওয়ার্ডে এই কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে । এর মধ্যে বেশ কিছু ওয়ার্ডে কাজ শেষের দিকে । বাকি ওয়ার্ডগুলিতেও দ্রুত এই কাজ শুরু করা হবে । কলকাতা পুরসভার ১৪৪ টি ওয়ার্ডের সমস্ত বস্তিতেই নিজস্ব ঠিকানা বা ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার দেওয়া হবে বলে জানান কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ (বস্তি) স্বপন সমাদ্দার ।

Published by:Arpita Roy Chowdhury

First published:

Tags: KMC



Source link

- Advertisement -spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest news
- Advertisement -spot_img
Related news
- Advertisement -spot_img