Saturday, August 13, 2022

২৩-এর শুরুতেই রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সম্ভবনা! কমিশনের প্রস্তুতিতে ইঙ্গিত !

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img


#কলকাতা: ২৪ এর লোকসভা ভোটে পাখির চোখ বিজেপির, তার আগে ‘২৩’- এর পঞ্চায়েত নির্বাচন কে পাখির চোখ করল তৃণমূল।  লক্ষ্য একটাই, লোকসভা ভোটের আগে রাজ্যের তৃণমূল স্তর থেকে বিজেপির শিকড় উপড়ে ফেলা। আগামী বছর মে মাস নাগাদ পঞ্চায়েত নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু রাজ্যের শাসক দল  চাইছে, তা আরও খানিকটা এগিয়ে আনতে। সূত্রের মতে, ২৩ এর শুরুতেই রাজ্যে ত্রিস্তরীয় নির্বাচন সেরে ফেলতে চায় রাজ্য সরকার।  আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনকে মাথায় রেখে রাজ্যের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের নির্বাচনী এলাকার পুনর্বিন্যাস ও আসন সংরক্ষনের বিষয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে কমিশন।


গত ২৫ শে জুলাই সরকারী ভাবে জেলা শাসকদের নির্দেশিকা পাঠিয়ে কাজ শুরুর নির্দেশ দেয় রাজ্য নির্বাচন কমিশন। আজ জেলা শাসক দের সঙ্গে বৈঠকে আগামী ২ রা সেপ্টেম্বরের  মধ্যে ওবিসি জনগননার কাজ শেষ করে, ১৬ ই সেপ্টেম্বরের মধ্যে পঞ্চায়েতের প্রতিটি আসনের সীমানা নির্ধারন ও আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত খসড়া তালিকা চূড়ান্ত করতে বলা হয়েছে। সাধারণ ভাবে, গোটা প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে ৬ থেকে ৭ মাস সময় লাগে। সেই হিসাবে আগামী বছরের গোড়ার দিকে রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সম্ভবনা রয়ছে বলে মনে করছে কমিশন ও জেলা প্রশাসনের একাংশ। সেক্ষেত্রে, পঞ্চায়েত ভোট নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অন্তত ৩ থেকে ৪ মাস এগোতে পারে।

 সম্প্রতি, উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে প্রশাসনিক বৈঠক ও দলীয় সভায় পঞ্চায়েত ভোটের জন্য দলকে প্রস্তুত হতে নির্দেশ দিয়েছেন  মুখ্যমন্ত্রী। গরমের চেয়ে শীতে ভোট হলে রাজ্যের জেলায় জেলায় ভোট করতে ভোটকর্মী ও ভোটারদের কষ্ট কম হবে বলে, সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ২১ শে জুলাই উপলক্ষে দলের জেলা  সাংগঠনিক বৈঠকে জেলা নেতৃত্বকে একই বার্তা শুনিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

 বিগত পুরভোটের ঘোষণার পর কোবিড পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে ভোট আটকানোর চেষ্টা করেছিল বিজেপি। ভোট পিছনোর দাবি নিয়ে আদালতে গিয়েও বিফল হয় তারা। এবার, পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে তাই সেপথে আর না হেঁটে নির্বাচনে লড়ার  জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বিজেপি।  বাম, কংগ্রেসেরও দাবি ভোট হলে তারা ভাল ফল করবে। ২১ এর বিধানসভা ভোটে শূন্য হয়ে গেলেও, পরবর্তী সময়ে আবার সম্ভবনা দেখাচ্ছে বামেরা৷ সাম্প্রতিক পুরভোট তার প্রমাণ।

বিগত পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্য প্রায় আট হাজার আসন দখল করেছিল বিজেপি। এর মধ্যে সিংহভাগই গ্রাম পঞ্চায়েত ও সমিতির আসন। মালদা জেলা পরিষদে বিজেপি বিরোধীদল হিসাবে স্বীকৃতি পায়।লক্ষ্যনীয় ভাবে, বিজেপি গ্রাম পঞ্চায়েতে সবথেকে বেশি আসন  পেয়েছে  বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার মত জঙ্গলমহলের জেলা থেকে। এরপর উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত লাগোয়া জেলায় বিজেপি ভাল ফল করে। ঠিক ১ বছর পরে লোকসভা ভোটে এই জেলাগুলি থেকেই বিজেপি সবচেয়ে বেশি সফল হয়ছে আসন জেতার বিচারে। সেই ধারা বজায় থেকেছে ২১ এর বিধানসভা ভোটেও। যদিও, লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে বিজেপির সাফল্যের পেছনে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ, ভোট লুঠ ও সন্ত্রাসের একটা বড় প্রভাব ছিল। সেদিক থেকে, আসন্ন পঞ্চায়েত ভোট তৃণমূল ও বিজেপির কাছে একটা টেস্ট।

আরও পড়ুন: সংসার সামলাতে হোমগার্ডের চাকরি! ৫৯ বছর বয়সে মাধ্যমিক পাশ করে অবাক করলেন ব্যক্তি!

রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যের সাম্প্রতিক শিক্ষা দুর্নীতি কাণ্ডে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া দলকে দ্রুত রাজ্য রাজনীতির চালকের আসনে ফেরানোই এই মূহুর্তে মমতার প্রধান লক্ষ্য। সে কথা মাথায় রেখেই সরকার ও দলের ভাবমূর্তি ফেরানোর লক্ষ্যে পদক্ষেপ করা শুরু করেছেন মমতা। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে জেলায় জেলায় দলীয় সংগঠনেও বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত রয়ছে দলে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, জাতীয় রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকতে,  ‘২৪ এর লোকসভা ভোটের আগে দেশে  মোদি বিরোধীতার প্রধাণ মুখ হতে, ২৩ এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সাফল্য দরকার মমতার। পঞ্চায়েতের মাধ্যমে রাজ্য রাজনীতিতে একাধিক জয় কায়েম করতে পারলে,  ২৪ এর ভোটে রাজ্য বিজেপির ‘পরিবর্তনের হাওয়া তোলাকে ‘ আটকে দেওয়া সম্ভব।  সে কারণেই দেরি না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট সেরে ফেলাই তৃণমূলের লক্ষ্য। রাজ্যের ৩২০৭ টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ৩৩০ টি পঞ্চায়েত সমিতি এবং ২০ টি জেলা পরিষদে মোট প্রায় ৬০ হাজার আসনে জনমতের আভাস পেতে এই ভোট রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা নিতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

ARUP DUTTA

Published by:Piya Banerjee

First published:

Tags: Election, Panchayat elections, West bengal



Source link

- Advertisement -spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest news
- Advertisement -spot_img
Related news
- Advertisement -spot_img