Monday, January 30, 2023

দালাল স্ট্রিটেই ‘ভরসা’ বিদেশি লগ্নিকারীদের

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img


এই সময়: টাকার দরে পতন, ক্রমেই বেড়ে চলা পণ্যের দর, বাণিজ্য ঘাটতির মতো অর্থনীতিকে উল্টো স্রোতে বইয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো যতই উপকরণ থাকুক না কেন, ভারতের শেয়ারবাজারের প্রতি বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়ে চলায় কোনও খামতি দেখা যাচ্ছে না। এমনকী, আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক-ফেডারেল রিজার্ভ টানা তিন বার ফের ০.৭৫ শতাংশ সুদের হার বাড়ানোর পরেও এই ধারাবাহিকতা রীতিমতো অবাক করে দেওয়ার মতো। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এমন হামলে পড়ে ভারতীয় সংস্থার শেয়ার কিনতে শুরু করেছে যেন কাল আর কেনার সুযোগ থাকবে না। আর তারই ফল হিসাবে শেষ ১০ দিন ভারতীয় সংস্থাগুলির শেয়ারে শুধুই বিনিয়োগ করে গিয়েছে তারা। এই ক’দিনে তিন হাজার কোটি ডলারের বেশি বা আনুমানিক ২৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার ঝুলিতে পুরেছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দল।

US Federal Reserve Rate Hike: 0.75 শতাংশ সুদের হার বাড়াল মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ, বড় ধাক্কা ভারতীয় শেয়ার বাজারে
এনএসডিএল-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২১ অক্টোবর থেকে শুরু করে মোট ২৪,৮৯৯.৫৯ কোটি টাকার নিট বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার ঘোষণার দু’দিন আগে অর্থাৎ, ৩১ অক্টোবর সব থেকে বেশি বিনিয়োগ করেছে তারা। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের প্রধান জেরম পাওয়েল সুদের হার আগের থেকেও বেশি বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়ার পরেও ভারতের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের একচেটিয়া বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে।

একই সময়ে ঘরোয়া বিনিয়োগকারীরা মুনাফার টাকা পকেটে পুরতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। শেষ ১০ কেনাবেচায় মাত্র একদিন মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ তাদের কাছ থেকে এলেও ৬,৭৭৯.৯৩ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে তাঁরা। ২০২২ ক্যালেন্ডার বর্ষে জুলাই (৪,৯৮৯ কোটি টাকা) এবং অগস্ট (৫১,২০৪ কোটি টাকা), এই দুই মাসে সব থেকে বেশি শেয়ার কিনেছে ঘরোয়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। গত বছর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত মোট ১,৫১,৯০০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে তারা।

প্রসঙ্গত, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বড় অর্থনীতি হতে চলেছে বলে জানিয়েছে উপদেষ্টা সংস্থা মর্গ্যান স্ট্যানলি। ভারতের সরকার দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা, ভূতাত্ত্বিক সুবিধা, জনসংখ্যার অধিকাংশই কম বয়সী হওয়ার কারণে এবং ডিজিটাল পরিকাঠামো ব্যবস্থা ভারতকে সেই দিশায় নিয়ে যাচ্ছে বলেই দাবি করেছে সংস্থাটি। মর্গ্যান স্ট্যনলির মতে, ভারতের মোট জাতীয় উৎপাদনের পরিমাণ বর্তমান ৩.৪ লক্ষ কোটি ডলার থেকে বেড়ে আগামী ১০ বছরে ৮.৫ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়াবে। এশিয়ায় সংস্থাটির মুখ্য অর্থনীতিবিদ চেতন আহিয়া বলেন, ‘প্রতি বছর ভারত ধারাবাহিক ভাবে জাতীয় উৎপাদনে ৪০ কোটি ডলার যোগ করবে, যা কেবলমাত্র আমেরিকায় এবং চিন অতিক্রম করতে পারে।’

Penny Stock: ঢিমেতালে চলল বুধবারের বাজার, তার মধ্যেও দৌড় অব্যাহত পেনি স্টকের
কিন্তু, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারতের শেয়ারবাজার এত বেশি আকর্ষক কেন? এর তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে।

১. সুযোগ হারানোর ভয়- চলতি বছরে এখন পর্যন্ত গোটা বিশ্বের শেয়ারবাজারে যখন ধস নেমেছে, তখন শান্তির মরুদ্যান হয়ে দেখা দিয়েছে ভারতীয় শেয়ারবাজার, যেখানে ঘরোয়া বিনিয়োগ ছন্দপতন হতে দেয়নি। চলতি ক্যালেন্ডার বর্ষে ডাও জোনস সূচক এখন পর্যন্ত ৯ শতাংশ পড়লেও নিফটি ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং সর্বকালের সর্বোচ্চ মাত্রা ছোঁয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির মোকাবিলায় ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সুদের হার ক্রমাগত বাড়িয়ে গেলেও শেয়ারবাজার দাঁতে দাঁত চেপে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে এবং নীচে নামার কোনও লক্ষণ দেখাচ্ছে না। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সুযোগ হারানোর ভয় তৈরি হয়েছে। নিফটি সর্বকালের সর্বোচ্চ মাত্রা ছাপিয়ে গেলে এই ভয় আরও বাড়বে বলেই বিশেষজ্ঞদের মত।

Trending IPO: 386 টাকায় শুরু বিনিয়োগ! বাজারে IPO আনল আরও একটি কোম্পানি
২.
সংস্থাগুলির আয়- বিভিন্ন চাপানউতোরের মধ্যে দিয়ে গেলেও ভারতীয় সংস্থাগুলির ত্রৈমাসিক আয়ের ফলাফল যথেষ্ট শক্তিশালী। এর থেকে আন্তর্জাতিক মন্দার পরিস্থিতিতেও ভারতীয় অর্থনীতির অন্তর্নিহিত শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। ঋণের চাহিদা বৃদ্ধি, অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং মুনাফার অঙ্ক বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের আর্থিক ফলাফল উৎসাহদায়ক হয়েছে

৩. শক্তিশালী টাকা- ডলার সূচক ১১৫ পয়েন্টের উচ্চতা থেকে ১১০ পয়েন্ট বা তার কম উচ্চতায় নামায় ভারতীয় টাকার দর হারানো শক্তি কিছুটা ফেরত পেয়েছে। গত মাসে ডলার পিছু ভারতীয় মুদ্রার বিনিময় দর রেকর্ড ৮৩.৩২ টাকায় পৌঁছে গেলেও বুধবার ৮১.৩৯ টাকা হয়েছে। টাকার বিনিময় দরে পতনের কারণে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজার থেকে বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার অন্যতম কারণ ছিল।



Source link

- Advertisement -spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest news
- Advertisement -spot_img
Related news
- Advertisement -spot_img